মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই, ২০১৭

গঠনতন্ত্র

"সর্বজনীন বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র
 ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা"(UAECSDO)

 -এর গঠনতন্ত্র -

                                                                                                                                                              ধারা নং -০১ ভূমিকা 

"সর্বজনীন বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা" একটি বেসরকারি সমাজসেবামূলক সংস্থা। শিক্ষার কোন বয়স নাই-শিক্ষাই জাতির  মেরুদন্ড। এর মূল ভিত্তি হলো দায়িত্বশীল ও একনিষ্ঠ হওয়ার মাধ্যম। আমাদের লক্ষ্য হলো শতভাগ নিরক্ষরমুক্ত নাগেশ্বরী উপজেলা গঠন করা এবং শারিরিক প্রতিবন্ধী  ও অসহায় বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য  সকল মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা ।বিদ্যালয় হতে ঝড়ে পড়া কিশোর ও যুবকদের বিনামূল্যে দিবা/নৈশকালীন শিক্ষার ব্যবস্থা করা। সেইসাথে নিরক্ষর ব্যক্তিদের বাংলা ভাষায় পড়তে ও লিখতে সাহায্য করা। যদি জনগনের মধ্যে এই চেতনা ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়,তাহলে তাদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং সুশিক্ষার প্রাকৃত মূল্যবোধ তারা বুঝতে পারবে।যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করবে।অশিক্ষিত যুব সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে এই সংগঠন নিরলস কাজ করে যাবে।

ধারা নং -০২ সংগঠনের নাম :

বাংলায়: সর্বজনীন বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা 

ইংরেজিতে: Universal Adult Education center and Social Development Organization 

সংক্ষিপ্ত: UAECSDO

ধারা নং-০৩ প্রতীকের ব্যাখ্যা:

দুদিকে ফুলের ডাল দ্বারা সন্নিবিষ্ট একটি বই যা সুন্দর জীবনের প্রতীক হিসাবে পথ প্রদর্শন করবে। বইয়ের ‍উপরে থাকবে আগুনের শিখা যা আলোকিত করবে নিরক্ষর ব্যক্তিদের জ্ঞান,দক্ষতা,ব্যক্তিত্ববোধ ও অসামাজিক চিন্তা চেতনা লদ্ধ মানসিকতা সম্পন্ন মানুষকে সঠিক,সুন্দর ও শৈল্পিক পথে ‍উন্নয়নের সুপ্ত সম্ভাপনার বিকাশ সাধন করবে।

ধারা নং-০৪ স্থায়ী ঠিকানা:

এই সংগঠনের স্থায়ী ঠিকানা হইলো : 

গ্রাম: কামার পাড়া(আমতলা),ডাকঘর: নাগেশ্বরী, উ‍পজেলা: নাগেশ্বরী, জেলা:কুড়িগ্রাম ।

ধারা নং-০৫ সংস্থার প্রকৃতি:

”সর্বজনীন বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র” একটি অরাজনৈতিক ও সমাজসেবামূলক অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

 ধারা নং-০৬ সংস্থার পরিধি :

এই সংস্থার কার্যক্রম নাগেশ্বরী উ‍পজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকিবে ।প্রয়োজনে রেজি:কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে কার্যক্রম বৃদ্ধি করা যাইবে ।

ধারা নং-০৭ সংস্থার লক্ষ্য ও  উদ্দেশ্য:

নিম্ন বর্নিত লক্ষ্য ও  উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হইবে।

(১) ইহা একটি অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসাবে কার্যএলাকায় অধিবাসিদের মধ্যে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। 

(২) বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বয়স্ক শিক্ষার্থীদরে মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করবে।

(৩) বেকারত্ব দূরীকরনের নিমিত্তে ছাগল,গাভী,মৎস চাষ ও নার্সারী প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের অনুপ্রানিত করবে ।

(৪) দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ,বই,খাতা,কলম,সহ আর্থিক অনুদান প্রদান করবে।

(৫)স্থানীয় নিরক্ষর কৃষক,শ্রমিক,রিক্সাচালক সহ সকল পেশার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার সহ ন্টারনেট চালানো শেখানো হবে ।

(৬) বিদ্যালয় হতে ঝড়ে পড়া শিশুদের লেখাপড়া ও ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা পাশাপাশি চিত্ত বিনোদনের জন্য খেলা-ধুলা,পাঠাগার স্থাপন ও শারিরিক শিক্ষার ব্যবস্থা করবে ।

(৭) পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির মাঝে ব্যবহারিক ও আক্ষরিক অর্থে জীবনবোধ সৃষ্টির লক্ষে প্রস্থাবনা,প্রচারনা চালনা সহ কর্মমূখী ও জীবনমূখী শিক্ষা বিস্তারের প্রচেষ্টা করবে ।

(৮) সুশিক্ষার আলো বিস্তারের জন্য বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন।

(৯) শিশুশ্রম ও শিশুনির্যাতন রোধকল্পে পদক্ষেপ গ্রহন।

(১০) মাদকমুক্ত সমাজগঠণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন।

(১১) সমাজে প্রতিবন্ধিদের জন্য প্রশিক্ষণ ও পূনর্বাসন করা।

(১২) ভিক্ষুক ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে শীতবস্ত্র ও অনুদান প্রদানে ব্যবস্থা গ্রহন।

(১৩) ভূমিহীন,বিত্তহীন,স্বামী পরিত্যক্তা,বিরঙ্গনা,যুদ্ধাহত,পল্লীর হত দরিদ্র জনগোষ্ঠির সার্বিক উন্নয়নে পারস্পারিক সহমর্মিতা ।

(১৪) অসহায় ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন।

(১৫) স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা।

(১৬) দেশপ্রেম জাগ্রতকরন মূলক কার্যক্রম গ্রহন করা।

 

ধারা নং-০৮ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা:

(নিম্ন বর্নিত ব্যক্তি সংস্থার সদস্য হতে পারবেন )

(১) ১৮ বৎসর কিংবা তদুর্ধ বয়সের স্থানীয় ভাবে বসবাস কারী যে কোন পুরুষ।

(২) সংবিধান আইন কানুনের প্রতি সম্মতি সম্পন্ন ব্যক্তি।

(৩) সৎ,উদ্যেমী,সংস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য থাকিতে হইবে।

(৪) সংস্থার কল্লাণার্থে সর্ব প্রকার কাজ করিতে বাধ্য থাকিবে।

(৫) সংস্থার নিয়ম শৃঙ্খলা ও নীতিমালা পরিপূর্ণভাবে মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে।

(৬) শিক্ষাগত যোগ্যতা নুন্যতম অষ্টম শ্রেণী পাশ থাকিতে হবে ।

(৭) সরকারী/আধাসরকারী/স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সদস্য হতে পারবে না । 

ধারা নং -০৯ সদস্যের প্রকারভেদ:

এই সংস্থায় তিন শ্রেণীর সদস্য থাকিবে:-

(১) দাতা সদস্য: যদি এলাকার কোন দানশীল ব্যক্তি  একযোগে ৫,০০০/-(পাঁচ হাজার) টাকা কিংবা সমমূল্যের কোন দ্রব্য সামগ্রী সংস্থায় দান করে তবে সাধারণ পরিষদের সিন্ধাতে তাকে দাতা সদস্য হিসাবে গ্রহণ করা হবে।উক্ত সদস্যের মেয়াদকাল ০২ (দুই) বৎসর। মেয়াদান্তে সম পরিমান টাকা বা সম্পদ দান করে দাতা সদস্য পদ নবায়ন করা যাবে। তিনি ভোট দান ও নির্বাচনে অংশগ্রহন করিতে পারিবেন।

(২) আজীবন সদস্য: যদি এলাকার কোন দানশীল ব্যক্তি  একযোগে ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা কিংবা সমমূল্যের কোন দ্রব্য সামগ্রী সংস্থায় দান করে তবে সাধারণ পরিষদের সিন্ধাতে তাকে আজীবন সদস্য হিসাবে গ্রহণ করা হবে। তিনি ভোট দান ও নির্বাচনে অংশগ্রহন করিতে পারিবেন।

(৩) সাধারণ সদস্য: সাধারণ সদস্য হওয়ার জন্য সংস্থায় নির্ধারিত ভর্তি ফি ও মাসিক চাদা প্রদান করিতে হইবে। সাধারণ সভায় উপস্থিত থাকিতে পারিবেন। ভোট দান ও নির্বাচনে অংশগ্রহন করিতে পারিবেন।

ধারা নং-১০ সদস্য ভর্তির নিয়ম:

(১) দাতা সদস্য: বর্নিত শর্ত পুরনের পর সদস্য হওয়ার জন্য সভাপতি/পরিচালক/সম্পাদক বরাবর আবেদন করিতে হইবে,সাধারণ সভায় অনুমোদনক্রমে আবেদনকারীকে দাতা সদস্য হিসাবে বিবেচনা করা হইবে।

 (২) আজীবন সদস্য: বর্নিত শর্ত পুরনের পর সদস্য হওয়ার জন্য সভাপতি/পরিচালক/সম্পাদক বরাবর আবেদন করিতে হবে,সাধারণ সভায় অনুমোদনক্রমে আবেদনকারীকে আজীবন সদস্য হিসাবে বিবেচনা করা হইবে।

(৩) সাধারণ সদস্য: বর্নিত শর্ত পুরনের পর সদস্য হওয়ার জন্য সভাপতি/পরিচালক/সম্পাদক বরাবর আবেদন করিতে হবে,সাধারণ সভায় অনুমোদনক্রমে আবেদনকারীকে সাধারণ সদস্য হিসাবে বিবেচনা করা হইবে।

ধারা নং-১১ সদস্য পদ বাতিল:

নিম্ন বর্নিত কারনে সদস্য পদ বাতিল করা হইবে।

(১) সংবিধান বহির্ভূত কোন কার্যকলাপে জড়িত হইলে।

(২) পরপর তিন মাসের চাদা পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে।

(৩) ইচ্ছাকৃত ভাবে তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকিলে।

(৪) আদালত কিংবা ফৌজদারী মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হইলে।

(৫) স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিলে,মস্তিস্কে বিকৃত ঘটিলে অথবা মিত্যু হইলে।

(৬) প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থি কোন কাজ করিলে।

(৭) এই সংস্থায় চাকুরি গ্রহণ করিলে ।

ধারা নং-১২ সদস্য পদ পুন:বহাল :

সদস্য পদ পুন:বহালের জন্য বাতিলকৃত সদস্য লিখিত ভাবে সভাপতি/পরিচালকের নিকট আবেদন করিবেন। সাধারণ সভায় ২/৩ অংশের সিদ্ধান্তে সদস্য পদ পুন:বহাল করা যাইবে।

ধারা নং-১৩ সাংগঠনিক কাঠামো:

সংস্থার কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে পরিচালনার জন্য চারটি পরিষদ থাকিবে: 

(ক) সাধারণ পরিষদ:  উ‍দ্যেক্তা সদস্য ,প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ,দাতা সদস্য ও আজীবন সদস্যদের সমন্বয়ে এই পরিষদ গঠিত হইবে।

(খ) ব্যবস্থাপনা পরিষদ: সংস্থার বয়স্ক শিক্ষা সহ অন্যান্য সকল কার্যক্রম সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনার জন্য সাধারণ সদস্যদের নির্বাচনে এই পরিষদ গঠিত হইবে। এই পরিষদে সদস্য সংখ্যা থাকিবে ০৩ (তিন)জন। এই পরিষদের মেয়াদকাল হবে ০২(দুই) বৎসর। পরিচালক মন্ডলীগনের লিখিত সুপারিশ এর ভিত্তিতে কার্যকরী পরিষদ হতে মনোনিত  সদস্যও এই পরিষদে বহাল থাকতে পারবেন। 

(গ) কার্যকরী পরিষদ: সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে এই পরিষদ গঠিত হইবে।এই পরিষদে সদস্য সংখ্যা থাকিবে ১০ (দশ) জন। এই পরিষদের মেয়াদকাল ০৩(তিন) বৎসর।

(ঘ) উ‍পদেষ্টা পরিষদ: গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে উ‍পদেষ্টা পরিষদ গঠিত হইবে। এই পরিষদে সদস্য সংখ্যা থাকিবে ০৭ (সাত) জন।

ধারা নং-১৪ কার্যকরী পরিষদের রুপরেখা :

ক্র:নং

পদবী

সংখ্যা

০১

সভাপতি (President)

০২

সহ-সভাপতি (Co-president)

০৩

সাধারণ সম্পাদক (Secretary)

০৪

সহ-সম্পাদক (Co-Secretary)

০৫

কোষাধ্যক্ষ (Cashier)

০৬

সাংগঠনিক সম্পাদক (Organizational Secretary)

০৭

প্রচার সম্পাদক (Promotion Secretary)

০৮

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক (Sports and Cultural respecting Secretary)

০৯

কার্য্যনির্বাহী সদস্য

 ধারা নং-১৫ ব্যবস্থাপনা পরিষদের রুপরেখা:

ক্র:নং

               পদবী

সংখ্যা

০১

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director)

০১

০২

সহকারী পরিচালক ( Co-Director)

০১

০৩

পরিচালক সদস্য (Member of Director)

০১

ধারা নং-১৬ সাধারণ পরিষদের ক্ষমতা ও কাজ:

(১) কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক দাখিলকৃত আয় ও ব্যয়ের হিসাব দাখিল করা।

(২) ব্যবস্থাপনা ও কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচন করা।

(৩) বার্ষিক বাজেট অনুমোদন করা।

(৪) সংবিধানের ধারা ও উপধারা পরিবর্তন করা।

(৬) নির্বাচনী বিধীমালা অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে পদ পূরণ করিতে হইবে।

(৭) সংস্থার স্বার্থের পরিপন্থি কাজের জন্য সদস্য পদ বাতিল করা।

(৮) মেয়াদ উর্ত্তীন হওয়ার পূর্বে কার্যকরী কোন সদস্য পদ শূন্য হলে কো অপারেটর এর মাধ্যমে সেই শূন্য পদ পূরণ করিবে। তবে তা রেজি:কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে  কার্যকর হইবে।

(৯) এই পরিষদ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হইবে।

ধারা নং -১৭ ব্যবস্থাপনা পরিষদের ক্ষমতা ও কাজ:

(১) সংস্থার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় নীতি নির্ধারণ করা।

(২) সংস্থার যাবতীয় হিসাব পরিচালনা করা ও ব্যাংক ‍হিসাব পরিচালনা করা।

(৩) অনাপত্তিকৃত কোন সদস্যর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা।

(৪) বয়স্ক শিক্ষার্থীদের ভর্তির অনুমোদন প্রদান করা।

(৫) সংস্থার সকল শাখা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রন করা।

(৬) সকল সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

(৭) বয়স্ক শিক্ষা প্রসারের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

ধারা নং-১৮ কার্যকরী পরিষদের ক্ষমতা ও কাজ:

(১) সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করা।

(২) বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহন করা ।

(৩) সংস্থার যাবতীয় রেকর্ড সংরক্ষণ করা ।

(৪) সাধারণ পরিষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের সাথে সমন্বয় সাধন করা।

ধারা নং-১৯ উ‍পদেষ্টা পরিষদের ক্ষমতা ও কাজ :

(১) উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাহী পরিষদকে সংস্থার উন্নয়ন কল্পে সহায়তা করবেন।

(২) এই পরিষদ সংস্থার উন্নয়নে পরামর্শ  প্রদান করবেন ।

ধারা নং-২০  কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য:

(১) সভাপতি: তিনি সংস্থার সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী হবেন। তিনি সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন সেইসাথে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদকের কাজের তদারকি করবেন ও পরামর্শ দিবেন। তিনি জরুরী কাজের জন্য অগ্রীম(৫,০০০) পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করিতে পারবেন। পরবর্তী নির্বাহী পরিষদের সভায় উক্ত খরচের অনুমোদন গ্রহন করিতে হইবে। তিনি সংস্থার যাবতীয় কাজের জন্য দায়ী থাকিবেন।

(২) সহ-সভাপতি: সভাপতির অনুপস্থিতে সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করবেন। সভা আহব্বান ও পরিচালনা করতে পারবেন। তবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন না ।

(৩) সাধারণ সম্পাদক: তিনি সংস্থার কার্যক্রম বাস্তবায়নে তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখবেন। তিনি সকল সভায় মন্তব্য লিপিবদ্ধ করবেন। সংস্থার কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন,বার্ষিক বাজেট ও রিপোর্ট প্রনয়ন করবেন। তিনি সংস্থায় অন্যান্য সম্পাদক মন্ডলী ও সদস্যদের কাজের তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করবেন। তিনি জরুরী কাজের জন্য অগ্রীম(৩,০০০)তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করিতে পারবেন। পরবর্তী নির্বাহী পরিষদের সভায় উক্ত খরচের অনুমোদন গ্রহন করিতে হইবে।

(৪) সহ-সম্পাদক: সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন না ।

(৫) কোষাধ্যক্ষ্য: তিনি সংস্থার যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখিবেন । তিনি সদস্য চাঁদা ,সাহায্য,অনুদান গ্রহন করবেন । তিনি ক্যাশ বহি,ভাউচার ও রশিদ সংরক্ষণ করবেন। তিনি জরুরী কাজের জন্য অগ্রীম(৩,০০০)তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করিতে পারবেন। পরবর্তী নির্বাহী পরিষদের সভায় উক্ত খরচের অনুমোদন গ্রহন করিতে হইবে।

(৬) সাংগঠনিক সম্পাদক: তিনি সংস্থার সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

(৭) প্রচার সম্পাদক: তিনি সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে জনগনকে অবহিত করার জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারনার ব্যবস্থা করবেন।

(৮) ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক: খেলা-ধূলার ব্যবস্থা ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম গ্রহন ও বাস্তবায়ন করবেন। 

(৯) কার্যনির্বাহী সদস্য: কার্যনির্বাহী সদস্যগন অন্যান্য সম্পাদকের সম-মর্যাদার অধিকারী হবেন । সভার পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত দেয়ার অধিকার থাকবে।

ধারা নং- ২১ ব্যবস্থাপনা পরিষদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য:

(১)ব্যবস্থাপনা পরিচালক:

(ক) সংস্থার পরিচালক-মন্ডলীর গৃহীত নীতিসমূহ কার্যকর করা ও সংস্থার গৃহীত নীতির ব্যাখ্যা দান। 

(খ) সংস্থার স্থীর নীতির পরিপ্রেক্ষিতে মূল কার্যকর নীতি নির্ধারন করা ।

(গ) ব্যবস্থাপক পরিচালক সংস্থার অধীনস্ত কর্মচারীদের সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রন করবেন।

(ঘ) তিনি সংস্থার বিভিন্ন কর্মচারীদের দায় দায়িত্বের পরিধি নির্দেশ করবেন।

(ঙ) তিনি পরিচালক পর্ষদের প্রতিনিধি হিসাবে সংস্থার সমস্ত কার্যাবলি আইন অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা        পর্যবেক্ষণ করবেন।

(চ) সংগঠনের সকল কাজ যাতে সচল থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা ।

(ছ) তিনি সংস্থার সকল সম্পত্তি ও অর্থের সংরক্ষণ ও তত্বাবধান করা।

(জ) প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করবেন।

(ঝ) ব্যবস্থাপক পরিচালক সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে বহির্বিশ্বের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

(ঞ) সংস্থার অফিস ও শ্রেণীকক্ষ পরিচালনা করবেন। তিনি জরুরী কাজের জন্য অগ্রীম(৫,০০০) পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করিতে পারবেন। পরবর্তী নির্বাহী পরিষদের সভায় উক্ত খরচের অনুমোদন গ্রহন করিতে হইবে। তিনি সংস্থার ব্যবস্থাপকীয় কাজের জন্য দায়ী থাকিবেন।

(২) সহকারি পরিচালক:  পরিচালকের অনুপস্তিতে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। পরিচালকের যাবতীয় কাজে সাহায্য করবেন।তবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন না । সংস্থার শাখা সমূহ তত্বাবধান করবেন।

(৩) পরিচালক সদস্য: অফিস ব্যবস্থাপনা করবেন ও সভাপতি/সম্পাদকের সাথে প্রয়োজনীয় বিষয়ে যোগাযোগ রাখবেন। জরুরী কাজের জন্য সিন্ধান্ত দিতে পারবেন।

ধারা নং-২২ কর্মকর্তা নিয়োগ পদ্ধতি:

সংস্থায় কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগের জন্য রেজি:কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহন করিতে হইবে।পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে আবেদন গ্রহন করিতে হইবে। নির্বাহী পরিষদ কর্তৃক গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে প্রার্থীর উপযুক্ততা যাচাই পূর্বক নিয়োগ প্রদান করিতে হইবে। নিয়োগ কমিটিতে রেজি:কর্তৃপক্ষের একজন সদস্য রাখিতে হইবে। নিয়োগ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে ব্যবস্থাপক পরিচালক/সাধারণ সম্পাদক নিয়োগাদেশ জারি করিবেন।

ধারা নং-২৩ নির্বাচন:

ব্যবস্থাপনা ও কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ০২ মাস পূর্বে সাধারণ পরিষদের সভা আহবান করিয়া পুরাতন কমিটি ভেঙ্গে দিতে  হইবে। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্য হতে সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচন কমিটি গঠন করিতে হইবে।নির্বাচন কমিশনের কেহ প্রতিদ্বন্দীতা করতে পারবেন না তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুই জন সদস্য থাকিবে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ০১ মাস পূর্বে নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করা হইবে। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত  হইবে। প্রাক্তন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ১৫ দিন পূর্বে নির্বাচনের কাজ শেষ করে ফলাফল ঘোষণা করিতে হইবে।ফলাফল ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে প্রাক্তন কমিটি নব-নির্বাচিত কমিটির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করিতে বাধ্য থাকিবে।ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে নির্বাচন কমিটি মধ্যস্থতা করিতে পারিবে। 

ধারা নং-২৪ সভা সংখ্যা ও কোরাম:

                                                       (ক)   সভা পাঁচ প্রকার হইবে: যাহা নিম্নরুপ:

(১) সাধারণ সভা: বৎসরে কমপক্ষে ০২ টি সাধরণ সভা অনুষ্ঠিত হইবে।সভাপতির অনুমতিক্রমে সাধারণ সম্পাদক সাধারন পরিষদের সভা কমপক্ষে ১৫ দিনের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং সাধারণ পরিষদের জরুরী সভা ০৭ দিনের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই সভা আহবান করবেন। ২/৩ অংশের সদস্য দ্বারা এই সভা কোরাম হইবে।

(২) কার্যকরী সভা: মাসে অন্তত ০১টি কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত  হইবে । সভাপতির অনুমতিক্রমে  এই পরিষদের সভা কমপক্ষে ০৭ দিনের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং সাধারণ পরিষদের জরুরী সভা ০৫ দিনের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই সভা আহবান করবেন। ২/৩ অংশের সদস্য দ্বারা এই সভা কোরাম হইবে।

(৩) মূলতবী সভা: কোন সভার কোরাম পূর্ণ না হইলে সভা মূলতবী বলে মন্তব্য লিখিত হইবে। সাধারণ পরিষদের ক্ষেত্রে ১৫ দিন ও কার্যকরী পরিষদের ক্ষেত্রে ০৭ দিনের মধ্যে এই সভা আহবান করিতে হইবে। সে ক্ষেত্রে কোরামের প্রয়োজন হইবে না।

(৪) জরুরী সভা: সভাপতির অনুমতিক্রমে সাধারণ পরিষদের জরুরী সভা ০৩ দিনের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই সভা আহবান করবেন। কার্যকরী পরিষদের জন্য জরুরী সভা ২৪ ঘন্টার নোটিশে এই সভা আহবান করবেন।

(৫) তলবি সভা: কোন কারনে সভা আহবানের প্রয়োজন হলে ১/৩ অংশ সদস্য আহবানের জন্য লিখিতভাবে সাধারণ সম্পাদকের নিকট আবেদন করিবেন। আবেদন প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে এই সভা সাধারণ সম্পাদক সভা আহবান করিতে ব্যর্থ হলে তবে আবেদনকারী সদস্যগন নিজেরাই এই সভা আহবান করিবেন এবং ২/৩ অংশ সদস্যের গৃহীত সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে। এই সভা বৈধ হবে।

(খ) কোরাম:

সাধারণ কার্যকরী পরিষদের ক্ষেত্রে ২/৩ অংশের উ‍পস্থিতিতে কোরাম হইবে। সংবিধানের রদবদল ,বার্ষিক বাজেট ইত্যাদির জন্য ৩/৪ অংশ সদস্যের উ‍পস্থিতিতে হইবে।

ধারা নং-২৫ সংস্থার আইনগত বাধ্যবাধকতা:

এই সংস্থার গঠনতন্ত্রে লক্ষ্য,উদ্দেশ্য বা কার্যক্রমে যাহা কিছু উল্লেখ থাকুক না কেন এ গঠনতন্ত্রের যাবতীয় কার্যক্রম ১৯৬১ সালের ৪৬ নং অধ্যাদেশের তফশীলে বর্ণিত কার্যক্রম ও বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

ধারা নং-২৬ অনাস্থা প্রস্তাব:

কার্যকরী ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের কোন সদস্যের বা পুরা পরিষদের  বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনিতে হইলে সাধারণ পরিষদের ১/৩ অংশের স্বাক্ষরে সু-স্পষ্ট কারণ উল্লেখ পূর্বক সভাপতি বরাবরে আবেদন করিতে হইবে। সাধারণ পরিষদের ২/৩ অংশের সিদ্ধান্তে তাহা কার্যকর হইবে।

ধারা নং-২৭ শূন্যতা পূরণ:

অনাস্থা হেতু কিংবা অন্য কোন কারনে কার্যকরী ও ব্যবস্থাপনা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে উক্ত পরিষদের কোন পদ শূন্য হইলে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঐ পদের দায়িত্ব সাময়িক ভাবে অন্য কাউকে দেয়া যাইবে। তবে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পদ পুরণ করিতে হইবে।  তবে তাহা রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ক্রমে কার্যকরী হইবে।

ধারা নং-২৮ অর্থনৈতিক কাঠামো:

(১) আয়ের উৎস: সদস্য ভর্তি ফি,সদস্যের চাঁদা,সাহায্য/দান,সরকারী ও বেসরকারী অনুদান ইত্যাদি হইতে প্রাপ্ত অর্থ সংস্থার তহবিল হিসাবে গণ্য হইবে।

(২) ব্যয়ের খাত: উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে বর্ণিত বিভিন্ন কার্যক্রমে বা খাতে আয়ের অর্থ  ব্যয় করা হবে।

(৩) ব্যাংক হিসাব : বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত যে কোন স্থায়ী শাখায় সংস্থার নামে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে আয়ের অর্থ জমা করিতে হইবে। উক্ত হিসাবটি সংস্থার সভাপতি(অনুপস্থিতিতে) সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হইবে। 

(৪) আর্থিক বৎসর: ১ লা জুলাই হতে ৩০শে জুন পর্যন্ত আর্থিক বৎসর ধরা হইবে।

(৫) অডিট: বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ কিংবা সমাজসেবা কর্মকর্তা দ্বারা প্রতি বৎসর অডিট করিয়া লইতে হইবে।

(৬) সংস্থার প্রয়োজনে অর্থ খরচের পূর্বে কার্যকরী পরিষদের অনুমোদন লইতে হইবে।

ধারা নং-২৯ সংবিধানের রদবদল:

সংবিধানের কোন ধারা, উপধারা রদ বদল করিতে হইলে ২/৩ অংশের কোরামে পরিবর্তন করিতে হইবে।  রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কার্যকরী হইবে না।

ধারা নং-৩০ অধ্যাদেশ ও বিধি বিধান অনুসরন:

এই হঠনতন্ত্রে যাহা কিছুই লিপিবদ্ধ করা হউক না কেন ইহা ১৯৬১ সালের ৪৬ নং অধ্যাদেশ এবং ১৯৬২ সালের বিধি বিধান অনুসরন করতে হবে।

ধারা নং-৩১ সংস্থার বিলুপ্তি সাধন: যদি কোন কারন বসত: সংস্থার বিলুপ্তি দেখা দেয় তাহা হইলে সাধারণ সভা আহবান করিয়া ৩/৫ অংশের সদস্যের কোরামে রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলিয়া গন্য হইবে।অত্র সংবিধানটি সকল সদস্যের সমন্বয়ে ০৭-০৯-২০১৫ ইং তারিখে লিপিবদ্ধ করা হয় এবং সাধারণ সভায় অনুমোদন করা হয়।


শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭

শিক্ষার কোন বয়স নাই,শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড
১.ডাঃ মাহফুজার রহমান উজ্জ্বল(বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, কেন্দ্রীয় সদস্য)
২. আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লা(উপজেলা নির্বাহী অফিসার)